Skip to main content

জিনের ছায়া

এই ঘটনাটির সঙ্গে আমি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কতটা সত্যি , কতটা কল্পনা আজ ও আমার অজানা...

আমাদের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে পিউ দি র ফ্ল্যাট। পিউ দি আমার দিদি , বন্ধু সব। আমরা একে অপরের কাছে নিজেদের সমস্ত সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করি। সেদিন বিকালে হঠাৎ ফোন পিউ দির। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো,"এখনি তৈরি হয়ে নে। একজায়গায় যেতে হবে।" আমি এপাশ থেকে কি,কেন ,কোথায় কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই বললো, রাস্তায় যেতে যেতে সব ঘটনা খুলে বলবো।এখন সময় নেই হাতে। অতঃপর আমি ও তড়িঘড়ি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম ।পিউ দি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলো।হাত ধরে টানতে টানতে গাড়ি তে বসালো। গাড়িতে বসে জিজ্ঞেস করলাম,"কি হয়েছে ঘটনাটা একটু বলবে। কিছুই তো বুঝতে পারছি না। কোথায় নিয়ে যাচ্ছ, কেন নিয়ে যাচ্ছ।"দেখলাম মুখ চোখ থমথমে পিউ দির। বললো,"ব্যাপারটা আমিও ঠিক জানি না রে।তবে সাধারণ ব্যাপার না এটা। কিছু তো একটা অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ আছে। আর সেজন্যই তো তোকে নিয়ে যাচ্ছি। তুই সঙ্গে থাকলে আমিও একটু সাহস পাই মনে।"আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না।

আমাদের গাড়ি এসে দাঁড়ালো শহরের কোলাহল থেকে বেশ দূরে একটা ফ্লাটের সামনে।বেশ নির্জন, শান্তিপূর্ণ জায়গা। চারিদিকে বড়ো বড়ো কিছু গাছও আছে। নির্জন, শান্তিপূর্ণ জায়গার প্রতি আমার শুরু থেকেই দুর্বলতা।পিউদিকে বললাম, "এ তো আমার জন্য আদর্শ জায়গা গো। দারুন গল্প লিখতে পারবো এইরকম পরিবেশে থাকলে"।পিউ দি নির্বিকার। অন্য সময় হলে কতো কি বলতো। শুধু বললো,"উপরে চল, তারপর বুঝবি কতটা শান্তির জায়গা , যেখানে এমনি গল্প না লিখতে পারলেও ভুতুড়ে গল্প নিশ্চয়ই লিখতে পারবি "। পিউদির কথা বলার ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল যে আর কথা না বাড়িয়ে পিউদির সঙ্গে লিফটের দিকে এগিয়ে গেলাম । চার তলার একটি ফ্ল্যাটের কলিং বেল বাজাতেই এক ভদ্রমহিলা দরজা খুলে দিলেন। পিউ দি কে দেখেই বললেন,," কি অবস্থা হয়েছে দেখ তোর বোনের। এভাবে আর কতদিন চলবে।" আমি তো বিন্দুবিসর্গও বুঝতে পারছি না ওদের কথা। অতঃপর পিউ দি পরিচয় করিয়ে দিলো।এই ভদ্রমহিলা আসলে পিউ দির মাসি। এই মাস ছয়েক হলো ওনারা এই ফ্ল্যাটটা নিয়েছেন। শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু কে জানতো এই জিনিস অপেক্ষা করে ছিলো ওনাদের জন্য। পিউ দির মেসোমশাই খুবই নিরীহ স্বভাবের মানুষ।ভেবেছিলেন রিটায়ার লাইফে একটু শান্ত পরিবেশে থাকবেন। কিন্তু এই শান্ত পরিবেশ যে ওনাদের জন্য এত অশান্তির কারণ হয়ে উঠবে তা ওনারা বুঝতে পারেননি।

এবার শুরু থেকে ঘটনাটি বললো পিউ দির মাসি। এই ফ্ল্যাটে যখন ওনারা এসেছিলেন,তখন সবকিছুই খুব স্বাভাবিক ছিল। কোনো রকম অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল না।যত ভীতিজনক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে ওনাদের একমাত্র মেয়ে রিমিতার এই ঘরে আসার পর। আসলে রিমিতা পড়াশোনা করে ব্যাঙ্গালোরে। ছুটি তে মা বাবার সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছে। ছুটি শেষ হলে আবার ফিরে যাবে নিজের হস্টেলে। সেরকম ই কথা ছিলো। কিন্তু এখানে আসার পর থেকে ওর সঙ্গে যা যা হয়েছে,তা বিশ্বাস করতে ওরও একটু অসুবিধা হচ্ছিলো। আর সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপারটা হলো, রিমিতা নাকি যতবারই ব্যাঙ্গালোরে ফিরে যাবে বলে ঠিক করে, ততবারই কোনো না কোনো ভাবে ওর যাওয়াটাই বন্ধ হয়ে যায়।

আমি আর পিউদি নিষ্পলক চোখে মাসির দিকে তাকিয়ে আছি আর শুনছি।এই ঘটনার প্রথম সূত্রপাত রিমিতার আসবার পরের দিন থেকেই। রাত্রি বেলা রিমিতা নিজের ঘরে শুয়ে ল্যাপটপে কাজ করছিল। হঠাৎই ও নিজের পায়ে কারুর হাতের স্পর্শ অনুভব করে। রিমিতা মনে করে ওর মা এসেছে হয়তো। কিন্তু ওর এই ভুল তক্ষুনি ভেঙ্গে গেল, যখন ও অনুভব করলো ওই হাতের স্পর্শ ওর সারা শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে ও চিৎকার করে ওঠে।ওর চিৎকারে পাশের ঘর থেকে ওর বাবা মা ও দৌড়ে আসে। এসে দেখে রিমিতা ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছে। কোনো কথা ই বলতে পারছে না।

পরের দিন আবার রাত্রিতে রিমিতা অনুভব করে, ওকে কেউ বিছানায় চেপে রেখে দিয়েছে।ও কিছুতেই কোনো মুভমেন্ট করতে পারছেনা। ভয়ে ওর গলা দিয়ে আওয়াজ বের হয় না। দরদর করে ঘামতে থাকে ও। এ কিরকম অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে ওর সঙ্গে? ও নিজেও বুঝতে পারছেনা। এর পরের ঘটনা আরো সাংঘাতিক। ভয়ে রিমিতা সেদিন রাতে ওর মাকে ওর সঙ্গে নিয়ে শুয়েছিল। সব ঠিকঠাক ছিল ।রিমিতা ও ভাবলো , নতুন জায়গায় ওর মনের ভুল ছিল আগের দুই রাতের ঘটনা। মাকে জড়িয়ে ও তাই পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিল।আগের দু রাত ভালো করে ঘুমাতে পারেনি ভয়েতে। কিন্তু হঠাৎই রিমিতা অনুভব করে ,কেউ ওকে খাট থেকে নীচে ফেলে, জোর করে ওর পুরো শরীর স্পর্শ করছে।রিমিতা তাকিয়ে দেখে , খাটের উপর ওর মা শুয়ে আছে।আর ও নীচে।অথচ ও তো মায়ের সঙ্গে ই শুয়েছিলো একসাথে। প্রচন্ড ভয়ে চিৎকার করে ও অজ্ঞান হয়ে যায়। আর ওর মা উঠে দেখে, রিমিতা মেঝেতে পড়ে আছে।

এইভাবে রোজ চলতে থাকে রিমিতার উপর প্রতি রাতেই কোনো না কোনো ঘটনা। অতো সুন্দর প্রাণবন্ত একটা মেয়ে ,একদম চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। চোখের তলায় কালি , নিষ্প্রাণ হয়ে গিয়েছিল।ওর মা বাবা ওকে সাইক্রিয়াটিস্ট এর কাছেও নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে কিছুই ফল হয়নি। দিনের পর দিন রিমিতা ক্রমশঃ ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলো। আর মেয়ের শরীরের এই অবস্থা দেখে ,ওর বাবা মা ও আর মেয়েকে একা ব্যাঙ্গালোরে পাঠাতে পারছিল না। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন ওনারা। কিন্তু কেউই আসল ঘটনা ধরতে পারছিল না। এইভাবে প্রতিদিন নিজের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে, গত কাল রিমিতা নাকি সুইসাইড করবার ও চেষ্টা করেছিল। আর সেজন্যই ওরা পিউ দিকে কাল ডেকে পাঠিয়েছেন।

আমি আর পিউদি সমস্ত ঘটনা শুনে হতবাক। এই ধরণের ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা আমাদের কল্পনার ও বাইরে।যাই হোক আমরা রিমিতার ঘরে গিয়ে দেখি, খাটের এক কোণে ও জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে।দেখেই মনে হচ্ছে ও প্রচন্ডভাবে ভয় পেয়েছে। আমি আর পিউদি ওর কাছে যেতেই, পিউদি কে জড়িয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো। খুব কষ্ট হচ্ছিল ওকে দেখে। খুব অসহায় মনে হচ্ছিল।কি অবস্থা হয়েছে মেয়েটার। এভাবে চলতে থাকলে তো ও শেষ হয়ে যাবে। পিউ দি আমাকে বললো,"ঘরে ফোন করে বলে দে, আজ আমরা এখানেই থেকে যাবো। মেয়েটাকে এভাবে ছেড়ে যাওয়া ঠিক মনে হচ্ছে না।"বলে দিলাম যে যার বাড়িতে । সত্যি কথা বলতে কি, আমার ও ইচ্ছা করছিল ,কি হয় রোজ রাতে রিমিতার সঙ্গে, সেটা প্রত্যক্ষ করার। কতটা সত্যি ব্যাপারটা সেটা জানতেই হবে আমাদের।

আমরা দুজন ওখানে থাকাতে,রিমিতা আর ওর বাবা মা ও একটু সাহস পেয়েছিল।সবাই ডিনার করলাম একসাথে। পিউ দি আর আমি বিভিন্ন রকমের কথা বলে,রিমিতার মনটা ওই সব ঘটনা থেকে সরিয়ে রাখতে চাইছিলাম।রিমিতা ও অনেকদিন পর হাসিখুশি লাগছিলো একটু। মনে মনে আমরা দুজন নিশ্চিন্ত হচ্ছিলাম, যাক এতদিনে মেয়েটা এই ঘটনা থেকে সরে আসতে চেষ্টা করছে অন্তত। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আমাদের এই ধারণা যে কতটা ভুল ছিলো, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা দুজনে বুঝতে পারলাম। সেই রাতে আমি আর পিউদি দুজনে রিমিতার ঘরে শুলাম। অনেক রাত অবধি গল্প করলাম সবাই। তারপর শুতে গেলাম। ঠিক মাঝ রাত্রিতে কিসের একটা আওয়াজ এ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখি পাশে রিমিতা নেই। তাড়াতাড়ি উঠে পিউ দিকে ডাকলাম। আর তারপর আমরা যা দেখলাম, তা বাস্তব নাকি আমাদের চোখের ভুল, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। দেখি রিমিতা দেওয়ালের সঙ্গে এমনভাবে চেপে দাঁড়িয়ে আছে, যেন মনে হচ্ছে কেউ ওকে চেপে রেখে দিয়েছে। একবিন্দু নড়াচড়া করবার ক্ষমতা নেই ওর।ওর মুখটা একটু উপরে করে ধরলে যেরকম অবস্থানে থাকে, সেভাবে আছে।আর ভীষণ ভয়ে রিমিতার পুরো শরীর কাঁপছে, ওর মুখ অস্বাভাবিক রকমের ভীতিজনক। আমি আর পিউদি ওর কাছে গিয়ে ওকে ওখান থেকে সরিয়ে আনতে গেলাম। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে আমরা দুজনে ই ওকে এক চুলও নাড়াতে পারলাম না।ওর শরীরটা পাথরের মত স্থির হয়ে আছে। এদিকে আমাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে মাসি আর মেসোমশাই ও এসে গেছেন।ওরাও রিমিতার এই অবস্থা দেখে ভয়ে স্থির হয়ে আছে ‌।আমি আর পিউদি ক্রমাগত রিমিতাকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো ভাবেই পারছিলাম না।ওই পরিস্থিতিতে ঠিক কি যে করা উচিত আমাদের বুঝতে পারছিলাম না কেউ ই। এবার আমি অনুভব করতে পারছিলাম যে, এই পরিবার গত ছ মাস ধরে কি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের চোখের সামনে রিমিতা এইভাবে ঘন্টা দুয়েক থাকার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।তখন হালকা ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমরা চারজন রিমিতাকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিলাম।

পরের দিন সকালে চা খেতে খেতে আমি আর পিউদি শুধু এটাই ভাবছিলাম,কি করে রিমিতাকে তার এই অসহনীয় জীবন থেকে মুক্ত করে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনব। মাসির বাড়ি র কাজের মেয়েটি হঠাৎ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। যেন কিছু বলতে চাইছে।পিউ দি আর আমি দুজনেই জিজ্ঞেস করলাম,"কিছু বলবে?"মেয়েটি ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বললো।বললাম"বলো কি বলবে"। মেয়েটি বললো,এই বাড়িতে যা কিছু ঘটছে, তা ও জানে। ভাবলাম জানতেই পারে। সারাদিন থাকে, এতো বড় ঘটনা, না জানাটা ই অস্বাভাবিক। মেয়েটি বললো,"দিদি তোমরা আমার সঙ্গে চলো । তোমাদের এক জায়গায় নিয়ে যাব। তোমরা তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর সেখানে গেলে পেয়ে যাবে।" আমি আর পিউদি একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছি। তারপর দুজনে ই বললাম,"চলো কোথায় নিয়ে যাবে। আমরা যেতে রাজি আছি।"আসলে রিমিতাকে এই কষ্ট থেকে যে কোনো ভাবে আমরা বের করবোই। কাজের মেয়েটি আমাদের হেঁটে ই যেতে বললো ওর সঙ্গে। এমনিতেই নির্জন জায়গা। কোনো কোলাহল নেই, গাড়ি র আওয়াজ নেই। আমরা তিনজন হাঁটতে শুরু করলাম। মাসির ফ্ল্যাট থেকে বেশ অনেকটা দূর জায়গাটা। দেখলাম একটা দরগা র ভেতর ঢুকছে ও। আমরা ও ঢুকলাম দুজনে। ভেতরে ভীষণ শান্ত পরিবেশ।এই দরগা বা মাজার সম্পর্কে শুনেছিলাম আগে, কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি।এই প্রথম ঢুকলাম। ভেতরে সাদা কাপড় পরিহিত পীর সাহেব বসে আছেন। আমরা যেতেই ইশারায় বসতে বললেন। আমি আর পিউদি একপাশে বসলাম। জানতে চাইলেন কেন এসেছি। সবিস্তারে সমস্ত ঘটনা জানালাম। দেখলাম আমাদের সব কথা শুনে রীতিমতো চিন্তিত উনি। বললেন, "যত তাড়াতাড়ি পারিস তোর বোনকে নিয়ে চলে যা, ওই বাড়ি ছেড়ে। নাহলে খুব বিপদে পড়বি সবাই। উনি আরো বললেন,"খুব সহজে তোরা যেতে পারবি না বোনকে নিয়ে।তাও চেষ্টা করে দেখ।যদি আল্লাহ চান, তাহলে পেরেও যেতে পারিস"। সত্যি বলতে কি এইসব শুনে আমাদের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। কিছু যে জিজ্ঞেস করবো, সেটাও পারছিলাম না ওনাকে দেখে। অসম্ভব ব্যক্তিত্ব ওনার। একটা এক্সট্রা কথা ও জিজ্ঞেস করবার সাহস হচ্ছিল না আমাদের।

আমরা দূর থেকে প্রণাম করে উঠতেই যাবো, হঠাৎ আমাদের অবাক করে দিয়ে উনি গুরুগম্ভীর কন্ঠে বললেন,"জিনের ছায়া পড়েছে তোর বোনের উপর। সহজে মুক্ত হতে পারবে না।এত সহজে ছাড়বে না তোর বোনকে ও। ওই বাড়িতে জিন আছে। ওই খালি জায়গায় কবর স্থান ছিল আগে।" বলছেন কি এই পীর সাহেব?আমি আর পিউদি তখন ভয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছি। জিন সম্পর্কে অনেক গল্প পড়েছি আগে। কিন্তু তাই বলে এই যুগে? এসব শোনার পর আমাদের আর চলে বাড়িতে আসবার ক্ষমতা ছিলো না তখন। কোনো রকমে বাড়িতে পৌঁছে ই মাসি কে বললাম আমরা দুজন,"এখনি চলো এখান থেকে। যেভাবে আছো সেইভাবে ই চলো"। রিমিতাকে ওর ঘর থেকে একপ্রকার টানতে টানতে বের করে আনলাম। নীচে নেমে সবাই গাড়িতে বসলাম তাড়াতাড়ি। পিউদি গাড়িতে স্টার্ট দিতে, যেন আমার ধড়ে প্রাণ এলো। ভাবলাম এ যাত্রা আমরা রিমিতাকে বাঁচিয়ে নিলাম। কিন্তু সত্যিই কি তাই?দশ মিনিট পর ই দেখি গাড়ি আর চলছে না।কি ব্যাপার কিছু ই বোঝা যাচ্ছে না। আমি আর পিউদি সামনে বসেছিলাম। আমি নীচু স্বরে পিউদি কে বললাম,"মনে হচ্ছে পীর সাহেব ঠিক ই বলেছিলেন।এত সহজে আমরা বেরোতে পারবো না । পিউ দি আর আমি অন্য কিছু ভাবছি তখন। দরকার হলে সারা রাত এই গাড়িতেই কাটিয়ে দেবো। কিন্তু ওই ভুতুড়ে বাড়িতে এই মেয়েটাকে নিয়ে কিছুতেই ফিরবো না আমরা আর।

কি করবো ভাবছি দুজনে। হঠাৎই আমার মাথায় এলো একটা ফোন করলে কেমন হয়। ভাবামাত্র আমি ফোন করলাম অনিরূদ্ধ দা মানে পিউ দির হাজব্যান্ড কে।ফোন করে লোকেশন জানিয়ে বললাম, এখনি যেন চলে আসে। আমরা গাড়ি তেই আছি। ২০মিনিটের মধ্যে অনিরূদ্ধ দা হাজির গাড়ি নিয়ে। কোনো কথা না বলে রিমিতাকে উঠিয়ে, আমরাও উঠলাম তাড়াতাড়ি। পিউ দির বাড়ির সামনে যখন গাড়ি এসে দাঁড়ালো, আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি এতক্ষণ অন্য কোনো জগতে ছিলাম। সবাইকে নিয়ে পিউ দির ফ্ল্যাটে গেলাম। কিছুক্ষণ পর বাড়ি। সে রাতে কিন্তু রিমিতার সঙ্গে কোনো রকম ঘটনা ঘটেনি। পরের দিনের ভোরের আলো ,রিমিতার জীবনেও নতুন আলোর সন্ধান এনে দিয়েছিল। অন্ততঃ ওর মুখের হাসি দেখে আমাদের তাই মনে হয়েছিল।

Popular Posts

ব্ল্যাক ম্যাজিক/কালা যাদু থেকে বাঁচার উপায়

রাইটার -  মি. জোকার আমার  প্রথম ৩টি পোষ্টের মাধ্যমে আমি কালা যাদু, জ্বিন, কুফুরি/তাবিজ/বান নিয়ে বলেছি । অনেকে হয়ত এই বেপারে অনেক অবগত হয়েছেন । আর অনেকে বেপারগুলা জানেন কিন্তু এ থেকে বাঁচার উপায় জানেন না । আমি  কালা যাদুর থেকে নিজেকে বাচানোর কিছু প্রথমিক বিষয় আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আর উপকারেও আসবে । তবে  আমি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আগে কিছু বলতে চাই । এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের অনেক গুলা শ্রেণী বিভাগ রয়েছে । এর মধ্যে কুফরি, ডাকিনি বিদ্যা, ট্যারোট কার্ড অন্যতম । এরা সবাই শ য়তানের পূজা করে । তবে সব কুফরিকারী, ডাকিনিবিদ্যাকারী, ট্যারোট কার্ড রিডার কালা যাদুকর হলেও অনেক কালা যাদুকর এগুলা করে না । আবার সব শয়তানের পূজারি আবার কালা যাদু কর না। যেমন লাভেয়ান সাটানিজম এই জনগোষ্ঠীর কথা আলাদা (এরা শয়তানের পূজা করলেই এদের সব আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে ) তাহলে  শুরু করা যাক , প্রথমেই বলে নেই সব ধর্মে বলা আছে যে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, আর সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেউ নেই । তাই সকল পরিবেশে তার উপরে ভরসা রাখুন । আমরা  ইসলাম ধর্মের যারা আছি তারা...

অতৃপ্ত আইডি

রাত তখন প্রায় ২ টা। ফেসবুকিং করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো। গিয়ে দেখলাম একটা মেয়ের আইডি, আইডির নাম, 'তামান্না আফরিন'।  আমি প্রোফাইল চেক না করেই রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ফেললাম।  রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর আমি মেয়েটির প্রোফাইলে ঢুকলাম, এবং তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম।  মাশাআল্লাহ! এতো সুন্দর মেয়েটা! বলার বাহিরে! তার আইডিতে তার সাথে অনেকেরই ছবি আছে। এরা হয়তো তার ফ্রেন্ডস আর ফেমিলি মেম্বার। এসব দেখে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে এটা ফেইক আইডি না।  আমি তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম। . মিনিট খানিক পর একটা মেসেজ আসলো। ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম এই মেয়েটারই মেসেজ। মেয়েটি "হাই" দিলো। আমিও রিপ্লাই দিলাম "হেলো"। মেয়েটি বললো, ~ কেমন আছেন? . -- জি ভালো। আপনি? . ~ হ্যা ভালো। . -- জি, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়ার কোনো কারণ? . ~ নাহ, এমনিই দিলাম। . -- ওহ আচ্ছা। . ~ আপনাকে ভালো লেগেছে। . তার এ কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। আবার একটু ভালোও লাগলো। কারন ওর ছবিগুলো দেখে ও কে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি জবাব দিলাম, -- ইয়ে..মানে, বুঝতে পারলাম না . ~ বললাম, আপনাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। . -- ও...

হরর মুভি রিভিউ - “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ”

চলে এলাম আজকের মুভি সিনোপসিস নিয়ে।। আজকে আমি যে মুভিটা নিয়ে লিখবো, সেটা হরর মুভি এর জগতে একটি বিশেষ অবস্থান করে রেখেছে। কারণ, মুভিটির মূল চরিত্রের অস্তিত্ব বাস্তব জীবনেও ছিল এবং এটি প্যারানরমাল বিষয়ের হিস্ট্রিতে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার উপর চিত্রিত। মুভিটির নাম হলোঃ- “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ” ( The Exorcism Of Emily Rose ) The Exorcism Of Emily Rose আমার মনে হয় মুভির সামারি না দিয়ে আপনাদের সত্য ঘটনাটা বললেই আপনারা বেশি উপকৃত হবেন। কারন, মুভি তো আপনারা ডাউনলোড করেই দেখতে পারবেন। কিন্তু মূল ঘটনা ইন্টারনেটেও কোথাও গুছিয়ে লেখা নাই। তাই আজ আমি প্রথমে ঘটনাটা দিয়েই শুরু করি। “এমিলি রোজ” একটি ফিকশনাল নাম। যার ঘটনা নিয়ে এই মুভিটা হয়েছে তার আসল নাম হলো, “ আনেলিসা মিশেল ” । সে ১৯৫২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বার, জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করে। বাভেরিয়া শহরের খুবই সাধারণ এবং সুন্দর একটি মেয়ে ছিল সে। সহজ-সরল এবং ধার্মিক স্বভাবের ছিল। ১৬ বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে হঠাৎ একদিন সে দেখল সে তার নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সাহায্যের জন্য সে তার পিতা-মাতা আর তিন বোনকে ডেকেছিল ঠিকই কিন্তু তা...