Skip to main content

শয়তানের পুনর্জন্ম

পূর্ব অতলান্তিক মহাসাগরের বুকে এমন একটি দ্বীপ থাকতে পারে; তা চিন্তারও অতীত! সুউচ্চ খাড়াই পাথুরে পাহাড়ে ঘেরা, ভারী কুয়াশার আস্তরণে আবৃত; আকাশ বা জলপথ হতে দেখলে মনে হয় সাগরের বুক চিড়ে একটা বিশালকায় আগ্নেয়গিরি পূর্ণ ঔদ্ধত্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এই বুঝি গর্জে উঠে গলগল করে লাভা উদ্গিরণ শুরু করবে। পাথুরে প্রাচীরকে ঘিরে সমুদ্রের বিস্তীৰ্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সামুদ্রিক মারণ ফাঁদ চোরা ঘূর্ণি বলয় যা অচিরেই বড় বড় জাহাজকে টেনে নিতে পারে সমুদ্র গহ্বরে! অবাক হবার মত ঘটনা হল, পৃথিবীর মানচিত্রে এই অচেনা ভূবনের কোন উল্লেখমাত্র নেই। বোয়িং ব্ল্যাক হর্ন ৭৭ দিক নির্ণয় ভুল করে যখন ভেঙে পড়লো ওই পাথুরে প্রাচীরের গায়ে, আকাশে দেখা গেল তিনটি প্যারাশুট তিন অভিযাত্রী সহ ধীরে ধীরে ভাসতে ভাসতে অবতরণ করছে, এক সময় তিনটি প্যারাশুটই হারিয়ে গেল ঘন কুয়াশার অন্তরালে। তিন হতভাগ্য অভিযাত্রী যে কোথায় অবতরণ করলো তা বলা অসম্ভব।

চেতনা ফিরে পেয়ে ভারী চোখের পাতা ধীরে ধীরে মেলে প্রোফেসর জন গ্রাহাম্বেল গাছগাছালী আর গাছের ঝুপসি পাতার ফাঁক দিয়ে নীল আকাশ দেখার ব্যর্থ চেষ্টা করে ক্ষান্ত হলেন। গাছের ডাল-পালার খোঁচায় শরীরের বেশ কিছু জায়গা ছড়ে-ছেঁচে গেছে বেশ বুঝতে পারছেন জন, টনটন করছে ক্ষত স্থানগুলো। প্যারাশুটের কাপড় আর শক্ত দড়ি সুবৃহৎ গাছটার ডালপালায় জড়িয়ে আছে, আর তিনি ঝুলে রয়েছেন মাটি থেকে কয়েক ফুট ওপরে, ভাগ্যিস প্যারাশুটের বেল্টটা ছিঁড়ে যায়নি না হলে অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়লে যে কি হত তা স্বয়ং যীশুই যানেন! ঘন কুয়াশার মধ্যে দীর্ঘক্ষন থাকার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হচ্ছে বেশ, কোনোরকমে এদিক ওদিক চেয়ে দেখলেন তিনি, না তাঁর সঙ্গের বাকি দুই অভিযাত্রীর চিহ্নমাত্র দেখতে পেলেন না কোথাও, রকি আর লালা ওরা বেঁচে আছে তো! নাকি পাথুরে প্রাচীরে বা মাটিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাদের, অজানা আশঙ্কায় জনের মন ব্যাকুল হয়ে উঠলো এবার। তাঁরা তিন জনেই তো একসাথে ঝাঁপিয়েছিলেন প্লেন থেকে, আসন্ন মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচবার আশায়! আকাশ পথে এই অদ্ভুত কুয়াশা ঢাকা প্রান্তরের সীমানা ছোঁয়ার সাথে সাথেই ভারী অদ্ভুতভাবে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গিয়ে সেটি সোঁ সোঁ করে পাথুরে প্রাচীরের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে, “উফঃ! কি ভয়ংকর!” মনে মনে স্বগোক্তি করলেন জন। কালক্ষেপ না করে ওঁরা লাফিয়ে পড়েন এক অনিশ্চিত পথে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ঘন কুয়াশার ফলে তিনজনেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যান একে অপরের থেকে।

রকি ও তার বান্ধবী লালা কবিরাজি শিক্ষাত্রী, নানান গাছগাছড়া, শিকড়-বাকর নিয়েই তাদের কাজ, এদিকে প্রফেসর জন একজন ভ্রমণ পিপাসু মানুষ সেই সাথে নানা ধরণের উদ্ভিদ নিয়েও তাঁর জ্ঞান অপরিসীম। ফিলাডেলফিয়ার এক চার্চের তত্ত্বাবধানে কবিরাজি শাস্ত্র, জীবনদায়ী ওষুধ ও বিশ্বব্যাপী তার প্রসারণ নিয়ে এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে ভাগ্যবশত জনের সাথে রকি আর লালার আলাপ হয়ে যায়। রকিই জনের কাছে আফ্রিকা স্থিত গিনি প্রদেশে অভিযানের প্রস্তাব রাখে, ওখানের জঙ্গলে নাকি হুলি উপজাতির বাস। ওই উপজাতি গোষ্ঠীর আদিবাসী ওঝারা নানান উদ্ভিদ ও গাছগাছরা-শেকড়বাকর দিয়ে জীবনদায়ী ওষুধ বানাতে সিদ্ধহস্ত! তাই, ভ্রমণ ও নতুন উদ্ভিদ ও জরিবুটির জ্ঞান অর্জনের টানে প্রোফেসর রাজি হয়ে যান এই অভিযানের পক্ষে। আহা ছেলেটার আর মেয়েটার একদম কাঁচা বয়স আর কয়েক মাস পরেই তো ওদের বিয়ে! ওদের যেন কোন ক্ষতি না হয়! “হে যীশু তোমার সন্তানদের মঙ্গল কর!” বিড়বিড় করে মনে মনে প্রার্থনা করলেন জন! 

সকল চিন্তার জাল কেটে একটা অতি ক্ষীণ অথচ গম্ভীর দ্রিম দ্রিম দ্রিম শব্দ তরঙ্গ জনের কানে এসে প্রবেশ করলো; অনেকটা আদ্যিকালের রণ দামাম’র ধ্বনির মত শব্দটা! উৎকর্ণ হয়ে জন শব্দের উৎসস্থল নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু, শব্দটা এতটাই ক্ষীণ যে সঠিক ধারণা করতে পারলেন না! তবে কি এই অচেনা বেনামী দ্বীপে মানুষের বাস আছে! মানুষ মানেই তো জীবনের আশা, এই অচেনা অজানা স্থানে রকি-লালাকে উদ্ধারের জন্যও তো সাহায্য দরকার! “আহ!” একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন জন আর মুহুর্তের মধ্যে তাঁর অভিজ্ঞ অভিযাত্রীর রক্ত তৎপর হয়ে উঠল। কালক্ষেপ না করে তাঁর ডান পায়ের বুটের ভাঁজে গুঁজে রাখা সর্বক্ষনের সঙ্গী ছুরিটা কোনোক্রমে টেনে বের করে প্যারাশুটের স্ট্র্যাপটা কাটতেই কয়েক ফুট নীচে শক্ত পাথুরে জমির ওপর গিয়ে পড়লেন তিনি আর তাঁর পা হড়কে গিয়ে তিনি পড়ে গেলেন। হাত দিয়ে মাটি ছুঁয়ে পরীক্ষা করে বুঝলেন, মাটি পাথুরে হলেও পিচ্ছিল শ্যাওলায় পরিপূর্ণ ও সামান্য তপ্তও বটে। প্যারাশুটে অবতরণের সময় যেটা কুয়াশা বলে অনুভব করেছিলেন, তা আদৌ কুয়াশা নয়, বরং বাষ্প যা পাথুরে জমি থেকে নিঃসৃত হয়ে চলেছে একটানা, অনেকটা কাঠ কয়লার উনুনের ধোঁয়ার মতন; প্রোফেসর বেশ অবাক হয়ে গেলেন প্রকৃতির এই আশ্চর্য সৃষ্টি দেখে, আশপাশের গাছ গাছালীগুলো কেমন অচেনা ঠেকলো তাঁর অভিজ্ঞ চোখে। সামনেই একটা টিলা দেখে এবার এগিয়ে গেলেন আর যতদূর চোখ যায় চেয়ে দেখতে লাগলেন অজানা অচেনা এক অদ্ভুত জগৎকে; টিলা নেমে গেছে বেশ খানিকটা আর গিয়ে মিশেছে এক বিশাল পরিধি নিয়ে ঘেসো প্রান্তরে, ঘাসগুলো বড় অদ্ভুত প্রায় বুক সমান উঁচু উঁচু কিন্তু মৃত শুকনো আর ফ্যাকাশে, প্রান্তরের মাঝে মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বড় বড় অচেনা গাছের দঙ্গল কিন্তু সে গাছের পাতা কিন্তু সবুজ নয় সেগুলো কালো আর রুক্ষ ও কেমন যেন সংকুচিতও। এছাড়াও তাঁর নজরে এলো বড় বড় ঘাসের মাঝে মাঝে কিছু বিশালকায় কালো পাথরের সারী। “ভারী অদ্ভুত তো! এত জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু এমনতর মৃত ভূমি এর আগে কোথাও চোখে পড়েনি, এ কোন মৃতের রাজ্যে এসে পড়লাম?” বিড়বিড় করে নিজের মনেই বলে উঠলেন প্রোফেসর জন গ্রাহামবেল। আবারও সেই একই দ্রিম দ্রিম দ্রিম দ্রিম শব্দ শুনতে পেলেন প্রোফেসর, শব্দের উৎস ধরে এগোতে লাগলেন, কিন্তু শরীর যে বাধা দেয়, বড় ক্লান্তি চেপে ধরছে তাঁকে, পা দুটো যেন কিছুতেই সঙ্গ দিতে চাইছে না, মন বলছে না এগোতে সামনে যে ঘোর বিপদ কিন্তু তাঁর বিবেক তাঁকে মনে করিয়ে দিচ্ছে রকি আর লালার কথা তাদেরকেও যে খুঁজে বার করতে হবে তাঁকেই যে ভাবেই হোক, তাতে মৃত্যু আসলেও পিছপা হবেন না তিনি, এই কদিনের মধ্যেই যে বড় ভালোবেসে ফেলেছেন তাঁর দুই প্রাণখোলা অসমবয়সী হাসিখুশি বন্ধু যুগলকে। হঠাৎ করেই মনে পড়লো তাঁর পিঠের কিট ব্যাগটির কথা, প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন সেটির কথা এই অদ্ভুত অচেনা জগতে পা রেখে! ওই ব্যাগটি তাঁর প্রতিটি অভিযানের সাথী, ওটির মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ থেকে আরম্ভ করে শুকনো খাবার, আগুন জ্বালাবার সরঞ্জাম, গগলস, টুপি, ব্র্যান্ডির বোতল কি নেই!

এদিকে বেলা পড়ে আসছে, আর বেশিক্ষণ সময় নেই; সন্ধে নামার আগেই সাহায্যের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে! এই কথা মনে হতেই ঝপ করে পিঠ থেকে ব্যাগ নামিয়ে তাঁর প্রিয় ক্যানোপি টুপি আর ব্র্যান্ডির বোতলটি বার করে নিলেন জন এখন এগুলো তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আর দেরী না করে কয়েক ঢোক ব্র্যান্ডি পান করলেন; তরল পানীয় তার যাদু দেখাল প্রায় সাথে সাথেই, শরীরে মনে নতুন উদ্যম সঞ্চারিত হলো যেন। এবার ধীরে ধীরে শ্যাওলা পড়া পাথুরে জমির ওপর দিয়ে খুব সাবধানে টিলা থেকে নেমে পড়লেন জন আর সকল দ্বিধা-সংকোচ ঝেড়ে ফেলে শব্দটা যেদিক থেকে এসেছে ঠিক সেদিক পাণে এগিয়ে চললেন বুক সমান উঁচু মৃত ঘাসের ঝোপঝাড় ঠেলে। প্রায় অনেকক্ষণ চলার পর টিলা থেকে যেগুলো উঁচু কালো পাথর বলে ভেবেছিলেন, সেগুলির কাছাকাছি পৌঁছে জন ঘোরতর অবাক হয়ে দেখলেন যে পাথরগুলো এক একটা দানবীয় কালো পাথরের মূর্তি; কয়েক হাত অন্তর অন্তর সার দিয়ে এমন ভাবে সাজানো আছে দেখে মনে হয় পথ নির্দেশ হিসেবে এগুলো ব্যাবহার করা হয়েছে, কিন্তু মূর্তিগুলো দেখে মালুম হচ্ছে বেশ কয়েক যুগ আগে তৈরি করা হয়েছিল পাথর কুঁদে, কারা তৈরি করেছিল এই আশ্চর্য পাথরের মূর্তি? বেশ কৌতূহল নিয়ে প্রোফেসর একটা মূর্তি ছুঁয়ে দেখতে গিয়ে ভিষণ রকম চমকে উঠলেন; একি! মূর্তি যে জীবন্ত! শ্বাস প্রশ্বাসের হালকা একটা স্পন্দন অনুভব করা যাচ্ছে এতো অসম্ভব! ভয় বিহ্বল হয়ে ছিটকে সরে আসতে গিয়ে তাঁর পা কিছুতে জড়িয়ে গেল আর তিনি টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেলেন, এবারো চমকে উঠলেন, একটা ধর বিহীন নর-কংকাল তাঁর পায়ে পুরো জড়িয়ে গেছে কি করে যেন! কিন্তু, পরক্ষণেই প্রচণ্ড ভয়ে দিশাহারা প্রোফেসর প্রায় পাগলের মত চেঁচিয়ে উঠলেন... “না, না, না! হে প্রভু রক্ষা কর”। কঙ্কালটাও নড়ছে তাঁর পায়ে চামড়া মাংসহীন শক্ত হাড়গুলো যেন চেপে বসতে চাইছে, যত বেলা শেষ হয়ে আসছে আর সন্ধ্যের আবছা অন্ধকার ঘনাচ্ছে, অদ্ভুত অচেনা জগতের মৃতেরা প্রাণ ফিরে পাচ্ছে, অচেনা গাছগুলো ধীরে ধীরে তাদের সঙ্কুচিত পাতা মেলে ধরছে। ওকি এসব কি দেখছেন জন! গাছের পাতাগুলো থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে! উৎকট একটা রক্ত-মাংস পচা গন্ধ দ্বীপটাকে গ্রাস করছে!

জন, প্রায় পাগলের মত এবার দৌড়তে শুরু করলেন মূর্তিগুলোকে অনুসরণ করে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পৌঁছলেন একটা বৃহৎ আকারের পৌরাণিক আমলে তৈরি স্মৃতি সৌধর সামনে... যার তোরণ দ্বারের দুই পাশে দুটি আদিম যুগের পাথুরে ড্রাগনের মূর্তি, বিচিত্র কলা কারুকার্য চিত্রিত সৌধের দেওয়ালে। বড় পরিচিত লাগল! কোথায় যে দেখেছেন এই সৌধের ছবি কিছুতেই মনে করতে পারলেন না তিনি। সৌধের সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য হাড়গোর, তাজা রক্ত মাখা একটা মানব করোটি আর একটা মরছে ধরা তরবারি মাটিতে গাঁথা। এতটা পথ দৌড়ে আসার ফলে প্রোফেসরের শ্বাসকষ্ট আবার ফিরে এলো, নিজের চিন্তা ধারা লোপ পাবার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি ব্র্যান্ডির বোতল থেকে পুরো তরলটা গলায় ঢেলে নিলেন... আর ঠিক তখনই সৌধের ফটক ধীরে ধীরে উন্মোচিত হোল কোন যাদুবলে, সৌধের অতল গহ্বর থেকে এক চেনা নারী কন্ঠের বিপুল ভয়ার্থ আর্তনাদে চরাচর কেঁপে উঠলো “প্রোফেসর বাঁচান!” কম্পিত চিত্তে প্রোফেসর জন চিনতে পারলেন এ কণ্ঠস্বর তাঁর প্রিয় লালা’র! কিন্তু সর্বোপরি রক্তজল করা হুহুঙ্কার ও নারকীয় প্রেতাত্মা সূচক হাসি ও রণ দামামার একনাগাড়ে দ্রিম দ্রিম দ্রিম শব্দব্রহ্ম সেই আর্তী চাপা দিয়ে দিল অবলীলায়। থর থর করে কেঁপে উঠলেন জন আসন্ন নিশ্চিত মৃত্যু ভয়ের তারসে তাঁর শরীরে প্রতিটা কোষ কেঁপে উঠলো! আর বিদ্যুৎ ঝলকের মত তাঁর মনে পরে গেল পেনসিলভেনিয়ার একটি গির্জার একশত বর্ষ পুরানো বাইবেলে আঁকা শয়তানের কবরের চিত্রটির কথা। সেখানে লেখা ছিল কোন ইহুদী নারীর রক্তপানে শয়তান পুনর্জীবন লাভ করবে; হায় ঈশ্বর লালাও যে ইহুদী!শ্রান্ত, ক্লান্ত প্রোফেসর জন গ্রাহাম্বেল প্রস্তরবৎ হতচকিত কিংকর্তব্যবিমুঢ় দাঁড়িয়ে পড়লেন নিরাশ হতোদ্যম হয়ে! অট্টহাসি আর নারকীয় গর্জনের প্রচণ্ডতা দ্বীপের পাথুর প্রাচীরে প্রতিফলিত হতে লাগলো আর শয়ে শয়ে কঙ্কালের খট খট খট হাড়ের শব্দ ধীরে ধীরে ঘিরে ধরলো প্রোফেসর’কে!

সেই সাথেই কালরাত্রির নিকষ অন্ধকার গ্রাস করলো অজানা দ্বীপটাকে।

Published from Blogger Prime Android App

Popular Posts

ব্ল্যাক ম্যাজিক/কালা যাদু থেকে বাঁচার উপায়

রাইটার -  মি. জোকার আমার  প্রথম ৩টি পোষ্টের মাধ্যমে আমি কালা যাদু, জ্বিন, কুফুরি/তাবিজ/বান নিয়ে বলেছি । অনেকে হয়ত এই বেপারে অনেক অবগত হয়েছেন । আর অনেকে বেপারগুলা জানেন কিন্তু এ থেকে বাঁচার উপায় জানেন না । আমি  কালা যাদুর থেকে নিজেকে বাচানোর কিছু প্রথমিক বিষয় আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আর উপকারেও আসবে । তবে  আমি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আগে কিছু বলতে চাই । এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের অনেক গুলা শ্রেণী বিভাগ রয়েছে । এর মধ্যে কুফরি, ডাকিনি বিদ্যা, ট্যারোট কার্ড অন্যতম । এরা সবাই শ য়তানের পূজা করে । তবে সব কুফরিকারী, ডাকিনিবিদ্যাকারী, ট্যারোট কার্ড রিডার কালা যাদুকর হলেও অনেক কালা যাদুকর এগুলা করে না । আবার সব শয়তানের পূজারি আবার কালা যাদু কর না। যেমন লাভেয়ান সাটানিজম এই জনগোষ্ঠীর কথা আলাদা (এরা শয়তানের পূজা করলেই এদের সব আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে ) তাহলে  শুরু করা যাক , প্রথমেই বলে নেই সব ধর্মে বলা আছে যে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, আর সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেউ নেই । তাই সকল পরিবেশে তার উপরে ভরসা রাখুন । আমরা  ইসলাম ধর্মের যারা আছি তারা...

অতৃপ্ত আইডি

রাত তখন প্রায় ২ টা। ফেসবুকিং করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো। গিয়ে দেখলাম একটা মেয়ের আইডি, আইডির নাম, 'তামান্না আফরিন'।  আমি প্রোফাইল চেক না করেই রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ফেললাম।  রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর আমি মেয়েটির প্রোফাইলে ঢুকলাম, এবং তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম।  মাশাআল্লাহ! এতো সুন্দর মেয়েটা! বলার বাহিরে! তার আইডিতে তার সাথে অনেকেরই ছবি আছে। এরা হয়তো তার ফ্রেন্ডস আর ফেমিলি মেম্বার। এসব দেখে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে এটা ফেইক আইডি না।  আমি তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম। . মিনিট খানিক পর একটা মেসেজ আসলো। ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম এই মেয়েটারই মেসেজ। মেয়েটি "হাই" দিলো। আমিও রিপ্লাই দিলাম "হেলো"। মেয়েটি বললো, ~ কেমন আছেন? . -- জি ভালো। আপনি? . ~ হ্যা ভালো। . -- জি, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়ার কোনো কারণ? . ~ নাহ, এমনিই দিলাম। . -- ওহ আচ্ছা। . ~ আপনাকে ভালো লেগেছে। . তার এ কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। আবার একটু ভালোও লাগলো। কারন ওর ছবিগুলো দেখে ও কে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি জবাব দিলাম, -- ইয়ে..মানে, বুঝতে পারলাম না . ~ বললাম, আপনাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। . -- ও...

হরর মুভি রিভিউ - “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ”

চলে এলাম আজকের মুভি সিনোপসিস নিয়ে।। আজকে আমি যে মুভিটা নিয়ে লিখবো, সেটা হরর মুভি এর জগতে একটি বিশেষ অবস্থান করে রেখেছে। কারণ, মুভিটির মূল চরিত্রের অস্তিত্ব বাস্তব জীবনেও ছিল এবং এটি প্যারানরমাল বিষয়ের হিস্ট্রিতে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার উপর চিত্রিত। মুভিটির নাম হলোঃ- “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ” ( The Exorcism Of Emily Rose ) The Exorcism Of Emily Rose আমার মনে হয় মুভির সামারি না দিয়ে আপনাদের সত্য ঘটনাটা বললেই আপনারা বেশি উপকৃত হবেন। কারন, মুভি তো আপনারা ডাউনলোড করেই দেখতে পারবেন। কিন্তু মূল ঘটনা ইন্টারনেটেও কোথাও গুছিয়ে লেখা নাই। তাই আজ আমি প্রথমে ঘটনাটা দিয়েই শুরু করি। “এমিলি রোজ” একটি ফিকশনাল নাম। যার ঘটনা নিয়ে এই মুভিটা হয়েছে তার আসল নাম হলো, “ আনেলিসা মিশেল ” । সে ১৯৫২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বার, জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করে। বাভেরিয়া শহরের খুবই সাধারণ এবং সুন্দর একটি মেয়ে ছিল সে। সহজ-সরল এবং ধার্মিক স্বভাবের ছিল। ১৬ বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে হঠাৎ একদিন সে দেখল সে তার নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সাহায্যের জন্য সে তার পিতা-মাতা আর তিন বোনকে ডেকেছিল ঠিকই কিন্তু তা...