Skip to main content

অমীমাংসিত একটি ঘটনা

আমার জীবনের অমীমাংসিত একটি ঘটনা বলতে চাচ্ছি!! 
যা আমাকে বার বার ভাবায় আর চিন্তায় ফেলে দেয়।। 
ঘটনাটি শুরু হয় ২০০৬ সালে যখন আমি বুঝের হই তখন থেকে বয়স আনুমানিক ১৩ একটি সপ্নের মাধ্যমে।। 
সপ্নটি ছিল এরকম,
আমি কোন একটি পুরাতন জায়গায় হাটছি আর ওই স্থানটি ছিল একেবারে নির্জন আর নিরিবিলি।। 
আমি হাটতে হাটতে সেখানে তেমন কাউকে দেখতে পাই না।। তো এভাবে হেটে হেটে অনেক  বাড়ি পার করে আমি ক্লান্ত হয়ে যাই,একটা সময় আমার পানির পীপাসা লাগায় আমি একটি বাড়ির সামনে দাড়াই কাওকে ডাক দেই কিন্ত কেউ সারা দেয় না। 
এজন্যে আমি আরেকটু এগিয়ে তার দরজার সামনে ডুকতেই আমার সপ্ন ভেঙ্গে যায়।
বাড়ির দরজা জানালা গুলো সব খোলা ছিল। 
তারপর আবারো ঠিক কয়েকদিন পর আমি একই সপ্ন দেখি ওই বাড়িটার সামনে গেলেই আমার সপ্ন ভেঙ্গে যায়।
এভাবে আমি প্রায় একই সপ্ন দেখতাম ঘুম ভাংলে আমার অনেক ভয়ও লাগতো কিন্ত কাওকে কিছু বলতাম না।
২০০৭ সাল আসার পর আমি আর সপ্নটা দেখিনি কিন্তু ২০০৮ সালে তখন আমার
 এস এস সি পরীক্ষা তাই ঘুমাতাম অনেক কম  আর ওই সময়ই আবার আমি একই সপ্ন দেখি হঠাৎ অনেকদিন পর সপ্নটা দেখায় আমার অনেকটাই ভয় কাজ করছিলো।। 
২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ এই ৪ বছরের মধ্যে আমি আর এই সপ্নটি দেখি নি।। আমি প্রায় সপ্নটির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।
কিন্ত ২০১৪ এর শেষের দিকে আবার আমি এই সপ্নটাই দেখি কিন্ত এইবার আমি আশে পাশে ঘুরি গাছের নিচে বসি কিন্ত হাটতে হাটতে আবার আমি সেই বাড়িটার সামনেই যাই আর তখনই আমার সপ্নটি ভেঙ্গে যায়।।
 ঘুম ভাংগার পর  আমার মনে হয়েছে সপ্নটা আমি অনেকক্ষন ধরে দেখছিলাম।। 
একই সপ্ন বার বার দেখায় আমার আর ভয় কাজ করছিলো না।।
কিন্ত আমি যেই জায়গার সপ্নটা দেখি সেখানে আমি কখোনো যাইনি তাই পুরো স্থানটি আমার অজানা ছিল। 
এবার আবার আগের মতই মাঝখানে আর সপ্নটি আসেনি।।
কিন্তু খুব অবাক করার মত বিষয় এখন বলছি৷  
২০১৬ সালে আমি কোন একটি প্রয়োজনে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ তে যাই।। 
আমার গ্রামের বাড়ির পাশের জেলা হওয়ার পরও আমার সেখানে কখোনো যাওয়া হয়নি এর আগে।।
তো সেখানে যাওয়ার পর আমি সোনারগাঁ জাদুঘরে ঘুরাঘুরি করি।। 
খুব অবাক করার বিষয় হলো আমি সেখানে এমন কিছু আলপনা দেখি যেগুলো আমার মনে হয়েছে আমি আগেও দেখেছি আমার অনেক কিছু খুব পরিচিত মনে হয়েছে।। 
আবার এতো মানুষের মধ্যেও আমি এমন কোন ফ্লোরে গিয়েছি সেখানে শুধু আমি একাই পাশে আর কেউ নেই এমনকি আমার পাশে ৪ জন গিয়েছিল তারাও নেই৷  
আমার হুট করেই একটা ভয় কাজ করলো তাই আমি সেখান থেকে বের হয়ে বাহিরে চলে আসলাম।।
আমরা সেখানে যখন ডুকেছিলাম তখন ৪ টা বাজে আর ৬ টায় আমরা বাহিরে বের হয়ে যাই তখন সন্ধ্যা প্রায়।। 
তো আমি বললাম কখনো এখানে আসা হয় নাই তো আশে পাশে আরেকটু ঘুরে তারপর বাসায় রওনা দেই৷। 
আর পানাম সিটির কথা বইতে পরেছিলাম তাই যাওয়ার জন্যে মন চাইছিল।।
কাছে বলে সবাই আমার কথায় রাজি হয়ে যায়
তাই আমরা রিক্সা নিয়ে রওনা দিলাম কিন্তু খুব খুব অবাক করার বিষয় হলো আমি যেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি সেটা আমার অনেক চেনা মনে হচ্ছে এমন লাগছে আমি এখানে অনেক বার আসছি আবার রাস্তা যেখানে গলি রোড সেটাও আমার অনেক পরিচিত লাগছে।।
তো আমরা ২০ মিনিট পর পানাম সিটিতে পৌছাই।।
তখন মাগরিবের আযান দিচ্ছিলো আর সন্ধার পর নাকি বন্ধ করে দেয় ঢুকতে, তাও বলে কয়ে আমরা ছোট একটি গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকি। 
ভিতরে একটা চায়ের দোকান দেখে সেখানে কিছু খাওয়া দাওয়া করি আর তখন প্রায় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিলো ল্যাম্পপোস্টের আলোতে আমরা কিছুটা সামনে দেখতে থাকি হটাৎই আমার জায়গাটা অনেক পরিচিত মনে হচ্ছিলো খুব বেশি পরিচিত আর অনেক আপন জায়গার মত লাগছিল কিন্ত এর আগে আমি কখনো সেখানে যাই নি৷। 
ভাঙ্গা বাড়িঘর বিল্ডিং এগুলো অনেক পরিচিত লাগছে আর তখন আমরা ৪ জন ছাড়া তেমন মানুষ জন ও ছিল না।। 
মাঝে মাঝে ২-৩ জন হেটে যাচ্ছিলো।।
এভাবে ২০ মিনিট ঘুরার পর আমার জীবনের এক বিস্ময়ের সাথে ধাক্কা খেলাম।। 
আমি এখন সেই বিল্ডিং টার সামনেই যেটা আমি অনেক বছর আগে থেকে আমার সপ্নে দেখে আসছিলাম।। 
একই রকম বিল্ডিং আর দরজা জানালা সব খোলা কিন্তু ভিতরে অন্ধকার আর জরাজীর্ণ৷ 
আমি অনেক অবাক হয়ে দেখছিলাম আর আমার খুব অসস্তি হচ্ছিলো৷ 
আমার পাশের ওরা আমাকে দেখে বার বার অবাক হয়ে যাচ্ছিলো আর বলছে কি হয়েছে আমার, আমি কি এখানের কাওকে চিনি কিনা।। 
এমন কেন করছি যদিও ওরা আমার সপ্নের ব্যাপারে কিছুই যানে না।।
আমাকে সেখানে খুব টানছে এমন ফিল হচ্ছে আর ভিতরে যাওয়ার জন্যে মনও চাইছে।।
কিন্তু আমার পাশের ওরা আমায় বলছে ভিতরে সাপ থাকতে পারে কেও আবার বললো ভুত জ্বীনও  থাকতে পারে৷। 
আমি কিছুক্ষন পর সেখানে ওদের কথা শুনে আবসা কিছু ফিল করছিলাম কেও ভিতরে আছে এমন কিন্তু জায়গাটা অন্ধকার ছিল।।।
আমার জীবনের খুব অমীমাংসিত একটি ঘটনা এটা।। 
আমি কখনো কাউকে বলি নি আজ এতো বছর পর এখানে শেয়ার করলাম৷। 
কারন আমি আবার ৪ বছর পর সপ্নটার সামনে আসছি।।
২০১৬ এর পর আমি আর সোনারগাঁ পানাম ওই এলাকার সামনেও আর যাই নি।। 
পুরোটা সময় কেমন একটা অসস্তি ভাব মনে হয়েছে আমার।। 

আমি জানতে চাচ্ছি এরকমটা কেন হচ্ছে তাও এতবছর পর পর৷

Popular Posts

ব্ল্যাক ম্যাজিক/কালা যাদু থেকে বাঁচার উপায়

রাইটার -  মি. জোকার আমার  প্রথম ৩টি পোষ্টের মাধ্যমে আমি কালা যাদু, জ্বিন, কুফুরি/তাবিজ/বান নিয়ে বলেছি । অনেকে হয়ত এই বেপারে অনেক অবগত হয়েছেন । আর অনেকে বেপারগুলা জানেন কিন্তু এ থেকে বাঁচার উপায় জানেন না । আমি  কালা যাদুর থেকে নিজেকে বাচানোর কিছু প্রথমিক বিষয় আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আর উপকারেও আসবে । তবে  আমি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আগে কিছু বলতে চাই । এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের অনেক গুলা শ্রেণী বিভাগ রয়েছে । এর মধ্যে কুফরি, ডাকিনি বিদ্যা, ট্যারোট কার্ড অন্যতম । এরা সবাই শ য়তানের পূজা করে । তবে সব কুফরিকারী, ডাকিনিবিদ্যাকারী, ট্যারোট কার্ড রিডার কালা যাদুকর হলেও অনেক কালা যাদুকর এগুলা করে না । আবার সব শয়তানের পূজারি আবার কালা যাদু কর না। যেমন লাভেয়ান সাটানিজম এই জনগোষ্ঠীর কথা আলাদা (এরা শয়তানের পূজা করলেই এদের সব আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে ) তাহলে  শুরু করা যাক , প্রথমেই বলে নেই সব ধর্মে বলা আছে যে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, আর সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেউ নেই । তাই সকল পরিবেশে তার উপরে ভরসা রাখুন । আমরা  ইসলাম ধর্মের যারা আছি তারা...

অতৃপ্ত আইডি

রাত তখন প্রায় ২ টা। ফেসবুকিং করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো। গিয়ে দেখলাম একটা মেয়ের আইডি, আইডির নাম, 'তামান্না আফরিন'।  আমি প্রোফাইল চেক না করেই রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ফেললাম।  রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর আমি মেয়েটির প্রোফাইলে ঢুকলাম, এবং তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম।  মাশাআল্লাহ! এতো সুন্দর মেয়েটা! বলার বাহিরে! তার আইডিতে তার সাথে অনেকেরই ছবি আছে। এরা হয়তো তার ফ্রেন্ডস আর ফেমিলি মেম্বার। এসব দেখে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে এটা ফেইক আইডি না।  আমি তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম। . মিনিট খানিক পর একটা মেসেজ আসলো। ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম এই মেয়েটারই মেসেজ। মেয়েটি "হাই" দিলো। আমিও রিপ্লাই দিলাম "হেলো"। মেয়েটি বললো, ~ কেমন আছেন? . -- জি ভালো। আপনি? . ~ হ্যা ভালো। . -- জি, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়ার কোনো কারণ? . ~ নাহ, এমনিই দিলাম। . -- ওহ আচ্ছা। . ~ আপনাকে ভালো লেগেছে। . তার এ কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। আবার একটু ভালোও লাগলো। কারন ওর ছবিগুলো দেখে ও কে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি জবাব দিলাম, -- ইয়ে..মানে, বুঝতে পারলাম না . ~ বললাম, আপনাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। . -- ও...

হরর মুভি রিভিউ - “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ”

চলে এলাম আজকের মুভি সিনোপসিস নিয়ে।। আজকে আমি যে মুভিটা নিয়ে লিখবো, সেটা হরর মুভি এর জগতে একটি বিশেষ অবস্থান করে রেখেছে। কারণ, মুভিটির মূল চরিত্রের অস্তিত্ব বাস্তব জীবনেও ছিল এবং এটি প্যারানরমাল বিষয়ের হিস্ট্রিতে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার উপর চিত্রিত। মুভিটির নাম হলোঃ- “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ” ( The Exorcism Of Emily Rose ) The Exorcism Of Emily Rose আমার মনে হয় মুভির সামারি না দিয়ে আপনাদের সত্য ঘটনাটা বললেই আপনারা বেশি উপকৃত হবেন। কারন, মুভি তো আপনারা ডাউনলোড করেই দেখতে পারবেন। কিন্তু মূল ঘটনা ইন্টারনেটেও কোথাও গুছিয়ে লেখা নাই। তাই আজ আমি প্রথমে ঘটনাটা দিয়েই শুরু করি। “এমিলি রোজ” একটি ফিকশনাল নাম। যার ঘটনা নিয়ে এই মুভিটা হয়েছে তার আসল নাম হলো, “ আনেলিসা মিশেল ” । সে ১৯৫২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বার, জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করে। বাভেরিয়া শহরের খুবই সাধারণ এবং সুন্দর একটি মেয়ে ছিল সে। সহজ-সরল এবং ধার্মিক স্বভাবের ছিল। ১৬ বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে হঠাৎ একদিন সে দেখল সে তার নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সাহায্যের জন্য সে তার পিতা-মাতা আর তিন বোনকে ডেকেছিল ঠিকই কিন্তু তা...