Skip to main content

দেশ বিদেশের ভূত

লেখক : অভিষেক মিত্র

দক্ষিণ আমেরিকার উপকথা অনুযায়ী, ওখানকার এক ছোট্ট গ্রামে একজন অপরূপ সুন্দরী নারী বাস করত। কিন্তু সে তার স্বামীর সাথে প্রতারণা করে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রেখেছিল তার প্রেমিকের সাথে। তার স্বামী জানতে পেরে রাগে পাগল হয়ে যায়। তারপর তার স্ত্রীর একটি পা কেটে সেটা পাঠিয়ে দেয় তার স্ত্রীর প্রেমিকের কাছে। আর পা কাটা অবস্থায় তার স্ত্রীকে ফেলে আসে গভীর জঙ্গলে। অত্যাধিক রক্তক্ষরণের ফলে খুবই বেদনাদায়ক মৃত্যু ঘটে সেই অপরূপ সুন্দরী নারীর। মৃত্যুর পর, সেই নারীর আত্মা পরিবর্তিত হয় প্রথম পাতাসোলা-এ। 
বলা হয়, যে সব নারী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে আর সেই কারণে নিজের স্বামী আর সন্তানদের অবহেলা করে, তারাই মৃত্যুর পর পরিবর্তিত হয় পাতাসোল-এ। যদি কোন নারী তার সন্তানকে হত্যা করে তাহলে মৃত্যুর পর সেও পরিবর্তিত হয় পাতাসোলায়। 

উপকথা অনুযায়ী, পাতাসোলাদের একটি মাত্র পা থাকে। আর সেই পায়ের পাতার জায়গায় থাকে একটা খুর (হরিণের)। দক্ষিণ আমেরিকার ভাষায় পাতা মানে হল পা আর সোলা মানে হল একটা। আর এই একটা পা থাকার কারণে এরা হাঁটতে পারে না। লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। সাধারণত, এই পাতাসোলাদের একটি স্তন, বড় বড় চোখ, বাঁকানো নাক, মোটা ঠোঁট আর বেড়ালের মত শ্বাপদ দন্ত থাকে। 
এরা ইচ্ছাধারী হয়। ইচ্ছা মত এরা নিজেদের পরিবর্তিত করতে পারে একজন অপরূপ সুন্দরী আবেদনময়ী নারীতে। এরা এই নারীর রূপ ধরে পুরুষদের নিয়ে যায় জঙ্গলের ভীতর, আর তারপর সেই শ্বাপদ-দন্ত দিয়ে শুষে নেয় রক্ত। অনেকটা ভ্যাম্পায়ারদের মত। বলা হয় এরা ইচ্ছে করলে কালো কুকুর বা গরুর রূপও ধরতে পারে। 
উপকথা অনুযায়ী, এরা বাস করে বিভিন্ন পর্বতে আর জঙ্গলে। এই সব স্থানের কাছাকাছি রাতের দিকে এরা এসে দাঁড়ায় অপরূপ নারীর রূপ নিয়ে। তারপর কোন একা পুরুষকে সেই পথে আসতে দেখলে তারা তাদের দূর থেকে ডেকে সাহায্য চায়। এই পাতাসোলাদের রুপে মুগ্ধ হয়ে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় সেই সব পুরুষ। তারপর জঙ্গলের ভীতরে নিয়ে গিয়ে সেই সব মানুষকে হত্যা করে এই পাতাসোলা।
কলোম্বিয়ার উপকথায় আমরা পাই টুন্ডা নামক এক ভূতের কথা। এই টুন্ডা হল পাতাসোলার মতই। তবে এদের দুটো পা-ই নেই। তার জায়গায় আছে একটা কাঠের পা। 
ভেনিজুয়েলায় সায়োনা বলে আমরা যে ভূতের কথা জানতে পারি, সেটাও কিন্তু এই পাতাসোলার মতই।  
কলোম্বিয়ার উপকথায় এই রকম আরও একটা ভূতের কথা পাওয়া যায়। তার নাম হল মালতাচিহুয়া। এরাও ঠিক পাতাসোলার মত। তবে এরা নারীর রূপ নিলেও সবসময় দেখা দেয় সাদা পোষাকে। তাই এদের ‘White Lady’ অথবা ‘Bride’ ও বলা হয়। এরা যদিও বাকিদের মত রক্ত পান করে না। এরা শুধু এদের শিকারদের খুন করেই আনন্দ পায়। 
তবে এই পাতাসোলাদের ভৌতিক কান্ডকারখানা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু উপজাতির কাছে এরা হল জঙ্গল আর জঙ্গলের পশুদের রক্ষাকর্তা। তাই যারা জঙ্গলে ঢুকে পশু শিকার করে, তাদের বেদনাদায়ক মৃত্যু দেয় এই পাতাসোলা।

(Collected)

Popular Posts

ব্ল্যাক ম্যাজিক/কালা যাদু থেকে বাঁচার উপায়

রাইটার -  মি. জোকার আমার  প্রথম ৩টি পোষ্টের মাধ্যমে আমি কালা যাদু, জ্বিন, কুফুরি/তাবিজ/বান নিয়ে বলেছি । অনেকে হয়ত এই বেপারে অনেক অবগত হয়েছেন । আর অনেকে বেপারগুলা জানেন কিন্তু এ থেকে বাঁচার উপায় জানেন না । আমি  কালা যাদুর থেকে নিজেকে বাচানোর কিছু প্রথমিক বিষয় আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আর উপকারেও আসবে । তবে  আমি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আগে কিছু বলতে চাই । এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের অনেক গুলা শ্রেণী বিভাগ রয়েছে । এর মধ্যে কুফরি, ডাকিনি বিদ্যা, ট্যারোট কার্ড অন্যতম । এরা সবাই শ য়তানের পূজা করে । তবে সব কুফরিকারী, ডাকিনিবিদ্যাকারী, ট্যারোট কার্ড রিডার কালা যাদুকর হলেও অনেক কালা যাদুকর এগুলা করে না । আবার সব শয়তানের পূজারি আবার কালা যাদু কর না। যেমন লাভেয়ান সাটানিজম এই জনগোষ্ঠীর কথা আলাদা (এরা শয়তানের পূজা করলেই এদের সব আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে ) তাহলে  শুরু করা যাক , প্রথমেই বলে নেই সব ধর্মে বলা আছে যে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, আর সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেউ নেই । তাই সকল পরিবেশে তার উপরে ভরসা রাখুন । আমরা  ইসলাম ধর্মের যারা আছি তারা...

অতৃপ্ত আইডি

রাত তখন প্রায় ২ টা। ফেসবুকিং করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো। গিয়ে দেখলাম একটা মেয়ের আইডি, আইডির নাম, 'তামান্না আফরিন'।  আমি প্রোফাইল চেক না করেই রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ফেললাম।  রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর আমি মেয়েটির প্রোফাইলে ঢুকলাম, এবং তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম।  মাশাআল্লাহ! এতো সুন্দর মেয়েটা! বলার বাহিরে! তার আইডিতে তার সাথে অনেকেরই ছবি আছে। এরা হয়তো তার ফ্রেন্ডস আর ফেমিলি মেম্বার। এসব দেখে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে এটা ফেইক আইডি না।  আমি তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম। . মিনিট খানিক পর একটা মেসেজ আসলো। ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম এই মেয়েটারই মেসেজ। মেয়েটি "হাই" দিলো। আমিও রিপ্লাই দিলাম "হেলো"। মেয়েটি বললো, ~ কেমন আছেন? . -- জি ভালো। আপনি? . ~ হ্যা ভালো। . -- জি, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়ার কোনো কারণ? . ~ নাহ, এমনিই দিলাম। . -- ওহ আচ্ছা। . ~ আপনাকে ভালো লেগেছে। . তার এ কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। আবার একটু ভালোও লাগলো। কারন ওর ছবিগুলো দেখে ও কে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি জবাব দিলাম, -- ইয়ে..মানে, বুঝতে পারলাম না . ~ বললাম, আপনাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। . -- ও...

হরর মুভি রিভিউ - “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ”

চলে এলাম আজকের মুভি সিনোপসিস নিয়ে।। আজকে আমি যে মুভিটা নিয়ে লিখবো, সেটা হরর মুভি এর জগতে একটি বিশেষ অবস্থান করে রেখেছে। কারণ, মুভিটির মূল চরিত্রের অস্তিত্ব বাস্তব জীবনেও ছিল এবং এটি প্যারানরমাল বিষয়ের হিস্ট্রিতে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার উপর চিত্রিত। মুভিটির নাম হলোঃ- “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ” ( The Exorcism Of Emily Rose ) The Exorcism Of Emily Rose আমার মনে হয় মুভির সামারি না দিয়ে আপনাদের সত্য ঘটনাটা বললেই আপনারা বেশি উপকৃত হবেন। কারন, মুভি তো আপনারা ডাউনলোড করেই দেখতে পারবেন। কিন্তু মূল ঘটনা ইন্টারনেটেও কোথাও গুছিয়ে লেখা নাই। তাই আজ আমি প্রথমে ঘটনাটা দিয়েই শুরু করি। “এমিলি রোজ” একটি ফিকশনাল নাম। যার ঘটনা নিয়ে এই মুভিটা হয়েছে তার আসল নাম হলো, “ আনেলিসা মিশেল ” । সে ১৯৫২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বার, জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করে। বাভেরিয়া শহরের খুবই সাধারণ এবং সুন্দর একটি মেয়ে ছিল সে। সহজ-সরল এবং ধার্মিক স্বভাবের ছিল। ১৬ বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে হঠাৎ একদিন সে দেখল সে তার নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সাহায্যের জন্য সে তার পিতা-মাতা আর তিন বোনকে ডেকেছিল ঠিকই কিন্তু তা...