Skip to main content

মিরপুরের ভূতুড়ে হাসপাতাল

Published from Blogger Prime Android App

কলমেঃ Arif Islam 

“এইখানে  ভুত থাকে !!!”

আমাদের আজকের যায়গার কথা শুরু করার জন্য এর থেকে ভালো কোন বাক্য পেলাম না আমি। শুরু থেকেই আপনারা দেখে থাকবেন, আমি চেষ্টা করেছি নগরীর সব থেকে জনবহুল যায়গা গুলোর ঘটনা তুলে ধরতে। এই খোজ যতই করেছি, ততই অবাক হয়েছি আমি। এমন এমন জনাকীর্ণ সব যায়গায় এমন সব লোমহর্ষক ভুতুড়ে যায়গা আমরা আবিষ্কার করেছি, যা সত্যি ই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল আমাদের নিজেদের জন্যও। সেটা হোক উত্তরার সেই বহুতল বাড়িটি, বা আসকোনার সেই পরিত্যাক্ত বাড়িটি বা ধানমন্ডির মত যায়গার সেই ফ্ল্যাট, রিতা মিতার ঘটনাটাই ধরুন। তবে আজ আর বাড়ি নয়। আজ এসেছি পুরো আস্ত একটা হাসপাতাল নিয়ে। মিরপুর নিয়ে এই আমার দ্বিতীয় লেখা। 

আমাদের আজকের যায়গাটি হল “ট্রাষ্ট আধুনিক হাসপাতাল, মিরপুর”। মিরপুর চিড়িয়াখানার একটু আগেই এর অবস্থান। হাসপাতালটি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্টিত হলেও ১৯৯৫ তে অনেকটা হুট করেই বন্ধ করে দেয়া হয় এই হাসপাতাল। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের হাসপাতাল হওয়ায় এই হাসপাতালে প্রচুর রোগীও থাকতো। অনেকেই বলে হাসপাতালের ভেতরে অনেক কে রেখেই আটকে দেয়া হয় হাসপাতালটি। এমনকি তখনও মর্গের লাশ গুলো পর্যন্তও সরানো হয়নি। আশপাশের লোকদের মতে সেই সব আত্মারা আজো ঘুরে বেড়ায় এই হাসপাতালের ভেতরে। কেউ সুধু দূর থেকে দেখা, আবার অনেকেরই আছে এখানকার অশরীরিদের সাথে সম্মুখ দর্শনের অভিজ্ঞতাও। আমার যদিও সেই সৌভাগ্য হয় নি, তবে জানার সৌভাগ্য হয়েছিল এখানে ঘটা কিছু কিছু ভুড়ুড়ে ঘটনার অভিজ্ঞতার কথা। 

প্রায় প্রতিদিন রাত দশটার পড়েই বিচিত্র সব ঘটনা শুরু হয়ে যায় এই হাসপাতালে। হটাৎ হটাৎ স্ট্রেচার টানার শব্দ বা রোগীদের ঘসে ঘসে হাটার শব্দ শোনা যায় নাকি এই হাসপাতালে। রাতে হটাৎ ই অনেক জোড়ে কেউ যেন কান্না করে ওঠে, যেন কোন কোন রোগীর কোন স্বজন তার মৃতদেহের পাশে কাদছে। আবার কেউ কেউ রোগীর আর্তনাদ এর শব্দ শোনার ও দাবী করেন। তবে সব থেকে বেশী যেটা শোনা যায়, তাহল অনেকেই সাদা কাপড় পরিহীত অনেক লম্বা কাউকে প্রায়ই রাতে এই হাসপালে ঘুরতে দেখা যায়। আর থেমে থেমে হাসপাতালের গ্লাস মুছে বেড়ায়, এক এক করে। এই আত্মা কে হতে পারে, আর কেনই বা সে আজো হাসপাতালের গ্লাস মুছে চলেছে, তা আজো সবার কাছেই রহস্য। 

হাসপাতালটি বন্ধের সময় এর মর্গের অনেক লাশ ও মেডিকেল কলেজের অনেক কঙ্কাল সব ভেতরে রেখেই বন্ধ করে দেয়া হয়, এবং পরবর্তীতে টা আর উদ্ধার বা স্থানান্তর করা হয় নি। অনেকেই নাকি সেই সব লাশের ডাক শুনতে পান, আবার অনেকেই লাশের ড্রেসপড়া দেহ হাটা চলা করতে দেখার দাবী করেন।  অনেকে রাতের বেলা পাশ দিয়ে যাবার সময় নিজের নাম ধরে ডাক শুনতে পান। আবার সন্ধ্যার পর এর বাউন্ডারীর ভেতর ঢুকলে সাদা কাপড় পরিহিত কে যেন তাড়া করার ঘটনাও শোনা যায়। অনেকেই এর বাউন্ডারির মধ্যে না প্রকার অশরিরির আক্রমনে পড়ার পর এর বাউন্ডারী সর্বসাধারনের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।

এই এলাকার জনৈক ভদ্রমহিলা জানান, আগে এই হাসপাতালের সাথেই ওনার বাসা ছিলো আগে, তো প্রায় রাতেই দরজার বাইরে থেকে ডাক শুনতে পেতেন তিনি। কখনো তার নাম ধরে, আবার কখনোবা তার মেয়ের নাম ধরে। কিন্তু যতবারই তিনি দরজা খুলে বের হতেন, প্রত্তেক বারই দেখতেন দরজার বাইরে একটা কালো বিড়াল দাঁড়ানো। 

অন্য এক জন জানায় বছর ৫-৬ আগে তারা এই হাসপাতাল সংলগ্ন এক বাসায় থাকতো। তো রাতের বেলা দরজায় শব্দ শুনে সে বের হয়ে হাসপাতালের দিকে তকাতেই কালো রঙ্গের কাপড় পড়া বিশাল এক আকৃতি দেখতে পায়, প্রচন্ড ভয়ে সে তার মাকে ডাকে, এবং সাথে সাথেই তার মাও ছুটে আসে এবং, দুই জনেই একসাথে দেখতে পায় সেই অশরীরি আকৃতিটাকে। দেখার পরপরি দুই জনেই নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে আর আকৃতিটা হটাৎ করেই ছুটে আসে তাদের দিকে, দৌড়ে নয় বরং যেন ভেসে আসার মত করে। ঠিক সামনে এসেই দুম করে গায়েব হয়ে যায় আকৃতিটা। 

এমন আরো অনেক অনেক কাহিনি রয়েছে এই হাসপাতালকে ঘিরে, যদিও এর সত্যতা সম্পর্কে কোন নিশ্চিত প্রমান দেয়া যায় না। তবে প্রবাদ তো আর এমনি এমনি হয় নি। যাহা রটে , তাহার কিছু না কিছুতো ঘটে। আর যা যা ঘটার ঘটনা আমরা এর ব্যপারে জানতে গিয়ে পেয়েছি, তার এক শতাংশও যদি সত্য হয়, তবে এই হাসপাতাল ভুতুড়ে তালিকায় বিশ্বের অনেক ভয়ঙ্কর তম যায়গারও ভিত নড়িয়ে দেবে । আজ তাহলে এপর্যন্তই, ধৈর্য সহকারে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে। আবার শিগ্রই আসবো নতুন কোন হাড়কাপানো , গা শিরশিরে ভূতুড়ে যায়গায় বিস্তারিত নিয়ে। সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন সবাই।

Popular Posts

ব্ল্যাক ম্যাজিক/কালা যাদু থেকে বাঁচার উপায়

রাইটার -  মি. জোকার আমার  প্রথম ৩টি পোষ্টের মাধ্যমে আমি কালা যাদু, জ্বিন, কুফুরি/তাবিজ/বান নিয়ে বলেছি । অনেকে হয়ত এই বেপারে অনেক অবগত হয়েছেন । আর অনেকে বেপারগুলা জানেন কিন্তু এ থেকে বাঁচার উপায় জানেন না । আমি  কালা যাদুর থেকে নিজেকে বাচানোর কিছু প্রথমিক বিষয় আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আর উপকারেও আসবে । তবে  আমি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আগে কিছু বলতে চাই । এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের অনেক গুলা শ্রেণী বিভাগ রয়েছে । এর মধ্যে কুফরি, ডাকিনি বিদ্যা, ট্যারোট কার্ড অন্যতম । এরা সবাই শ য়তানের পূজা করে । তবে সব কুফরিকারী, ডাকিনিবিদ্যাকারী, ট্যারোট কার্ড রিডার কালা যাদুকর হলেও অনেক কালা যাদুকর এগুলা করে না । আবার সব শয়তানের পূজারি আবার কালা যাদু কর না। যেমন লাভেয়ান সাটানিজম এই জনগোষ্ঠীর কথা আলাদা (এরা শয়তানের পূজা করলেই এদের সব আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে ) তাহলে  শুরু করা যাক , প্রথমেই বলে নেই সব ধর্মে বলা আছে যে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, আর সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেউ নেই । তাই সকল পরিবেশে তার উপরে ভরসা রাখুন । আমরা  ইসলাম ধর্মের যারা আছি তারা...

অতৃপ্ত আইডি

রাত তখন প্রায় ২ টা। ফেসবুকিং করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো। গিয়ে দেখলাম একটা মেয়ের আইডি, আইডির নাম, 'তামান্না আফরিন'।  আমি প্রোফাইল চেক না করেই রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ফেললাম।  রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর আমি মেয়েটির প্রোফাইলে ঢুকলাম, এবং তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম।  মাশাআল্লাহ! এতো সুন্দর মেয়েটা! বলার বাহিরে! তার আইডিতে তার সাথে অনেকেরই ছবি আছে। এরা হয়তো তার ফ্রেন্ডস আর ফেমিলি মেম্বার। এসব দেখে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে এটা ফেইক আইডি না।  আমি তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম। . মিনিট খানিক পর একটা মেসেজ আসলো। ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম এই মেয়েটারই মেসেজ। মেয়েটি "হাই" দিলো। আমিও রিপ্লাই দিলাম "হেলো"। মেয়েটি বললো, ~ কেমন আছেন? . -- জি ভালো। আপনি? . ~ হ্যা ভালো। . -- জি, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়ার কোনো কারণ? . ~ নাহ, এমনিই দিলাম। . -- ওহ আচ্ছা। . ~ আপনাকে ভালো লেগেছে। . তার এ কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। আবার একটু ভালোও লাগলো। কারন ওর ছবিগুলো দেখে ও কে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি জবাব দিলাম, -- ইয়ে..মানে, বুঝতে পারলাম না . ~ বললাম, আপনাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। . -- ও...

হরর মুভি রিভিউ - “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ”

চলে এলাম আজকের মুভি সিনোপসিস নিয়ে।। আজকে আমি যে মুভিটা নিয়ে লিখবো, সেটা হরর মুভি এর জগতে একটি বিশেষ অবস্থান করে রেখেছে। কারণ, মুভিটির মূল চরিত্রের অস্তিত্ব বাস্তব জীবনেও ছিল এবং এটি প্যারানরমাল বিষয়ের হিস্ট্রিতে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার উপর চিত্রিত। মুভিটির নাম হলোঃ- “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ” ( The Exorcism Of Emily Rose ) The Exorcism Of Emily Rose আমার মনে হয় মুভির সামারি না দিয়ে আপনাদের সত্য ঘটনাটা বললেই আপনারা বেশি উপকৃত হবেন। কারন, মুভি তো আপনারা ডাউনলোড করেই দেখতে পারবেন। কিন্তু মূল ঘটনা ইন্টারনেটেও কোথাও গুছিয়ে লেখা নাই। তাই আজ আমি প্রথমে ঘটনাটা দিয়েই শুরু করি। “এমিলি রোজ” একটি ফিকশনাল নাম। যার ঘটনা নিয়ে এই মুভিটা হয়েছে তার আসল নাম হলো, “ আনেলিসা মিশেল ” । সে ১৯৫২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বার, জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করে। বাভেরিয়া শহরের খুবই সাধারণ এবং সুন্দর একটি মেয়ে ছিল সে। সহজ-সরল এবং ধার্মিক স্বভাবের ছিল। ১৬ বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে হঠাৎ একদিন সে দেখল সে তার নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সাহায্যের জন্য সে তার পিতা-মাতা আর তিন বোনকে ডেকেছিল ঠিকই কিন্তু তা...