Skip to main content

এক ভৌতিক হাসপাতাল

মেলবর্ন শহরে এমন একটা হাসপাতাল আছে যেটা ভুতুড়ে।প্রায় কয়েক বছর ধরে পরিত্যাক্ত।সরকার হাসপাতাল টি সিলগালা করেছেন। মজার ব্যাপার হলো প্রায়ই রাতে সেখানে আলো দেখা যায়। হাসপাতাল টি পাহারা দেওয়ার জন্য ২জন সিকিউরিটি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।প্রথম ১০দিন কিছুই ঘটেনি।১১ তম রাতে হঠাৎ পাশের রুম থেকে ছোট্ট একটা আওয়াজ,বলে রাখি রুমের পাশেই অপারেশন থিয়েটার। প্রথম ব্যক্তি পত্রিকা পড়ায় ব্যাস্ত। ২য় জন বলে উঠল কি ব্যাপার কি হয়েছে,পাশের রুমে শব্দ কেন? ১ম জন বললো হয়ত বিড়াল। ২য়জন বললো এই বদ্ধ ঘরে বিড়াল আসবে কোথা থেকে হয়ত চোর এসেছে।১ম জন ২য়জনকে ঘরে যেতে বললে ২য়জন ১টা টর্চ নিয়ে ভিতরে ঢুকলেন। মুহুর্তেই একটা আর্তনাদ। ১ম জন ভয় পেয়ে গেলেন এবং এগোতে থাকলেন,যখন তিনি অপরেশন থিয়েটারের সামনে আসলেন দেখলেন বাহিরে লাল বাতি জালানো।
তিনি অপারেশন থিয়েটারের বাহিরের কাঁচ দিয়ে যা দেখলেন তা লোমহর্ষকর। তিনি দেখলেন অপারেশন থিয়েটারের বেডে তার সহকর্মী শুয়ে আছেন।আর তাকে মনে হচ্ছে যেন ভারি কিছু দিয়ে জখম করা হয়েছে।তার করুন গোঙ্গানিতে নিস্তব্ধ হাসপাতাল যেন আরো ভয়ানক রুপ ধারন করেছে। তিনি এবার OT এর দরজায় কড়া ঘাত করতে যাবেন এমন সময় অপারেশন থিয়েটারথেকে ফিসফিসানির আওয়াজ আসতে লাগলো। তিনি ভয়ার্ত চোখে ভিতরে উকি দিয়ে দেখলেন কেউ নেই কিন্তু শব্দগুলো আরো তীব্র ভাবে শোনা যাচ্ছে। দরজায় কান পাততেই তিনি শুনতে পেলেন একটি মেয়ে কণ্ঠ কয়েকটি ছেলে কণ্ঠকে বলছে,তাড়াতাড়ি ওটি রেডি করো,ছেলেটার অবস্থা সাংঘাতিক।এখনি অপারেশন করতে হবে,বুকের ভিতর থেকে কলিজাটা বের করতে হবে ওটার ইনফেকশন হয়ে গেছে। এটা শুনে লোকটি ভয়ে মৃতপ্রায়। লোকটি ওটির দরজার গ্লাসটি দিয়ে দেখলো কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা তার সহকর্মীর বুকটা চাকু দিয়ে ফলা ফলা করছে আর তার সহকর্মী ভয়ার্ত কণ্ঠে বাচাও বাচাও বলে চিৎকার করছে।সহকর্মীর আর্তনাদে হাসপাতালের আবহাওয়া ক্রমশই ভারি হয়ে যাচ্ছে। তিনি এবার যা দেখলেন তার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না।
তিনি দেখলেন তার সহকর্মীর বুক ফেড়ে কলিজাটা বের করে একজন চিবুচ্ছেন।এটা দেখে লোকটি ভয়ে চিৎকার দিলেন।কিন্তু চিৎকারটাই তার জন্য কাল হয়ে দাড়ালো। এক বয়স্ক কণ্ঠ বলে বসলো দেখোতো সবাই দরজা পাশে মনে হয় রোগীর আত্মীয়। লোকটি এটা শোনা মাত্র যেই না মাথাটা তুলেছেন একটি মেয়ে কণ্ঠ বলে উঠলো আমি তাকে দেখতে পেয়েছি,এটাকেও অপারেশন করতে হবে। এটা শোনা মাত্র লোকটি প্রাণপনে দৌড় দিলেন।
প্রায় কিছুক্ষন পর তিনি দেখলেন হাসপাতালের ফটক পেড়িয়ে তিনি রাস্তায়উঠেছেন।মুহুর্তেই এক শিহরন খেয়ে গেল তার দেহে,সত্যিই তিনি বাচতে পেরেছেন তাহলে।কিছুক্ষনের মধ্যে ক্লান্তিতে তার চোখ ডুবে গেল ঘুমের সাগরে। বেলা অনেক গড়িয়ে গেছে। ইঞ্জিনিয়ারের চিৎকারে লোকটির ঘুম ভেঙে গেল।ইঞ্জিনিয়ার রাগে ফোপড়াচ্ছেন আর বলছেন, এত সকাল ধরে কেউ ঘুমাই নাকি। লোকটি ভয়ভরা কণ্ঠে সব খুলে বললেন।ইঞ্জিনিয়ার তার কথা বিশ্বাস না করে সরেজমিনে দেখার জন্য পুলিশের কয়েকজন সিপাহী নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন। কিছুদুর আসার পর অপারেশন থিয়েটারের সামনে এসে সবাই অবাক।বেডে কে জানি শুয়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখা গেল সেটা গতরাতের গার্ডদের ভিতর একজন। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো এটা যে,লাশটির চোখ, কিডনী, কলিজা ও লিভার নেই। নাড়িভুড়ি গুলো বাহিরে বেড়িয়েআছে।এবার পুলিশ গুলো লাশটিকে সরিয়ে হাসপাতালের কাগজ খুজতে লাগলেন।হঠাৎ একটা কাগজে চোখ আটকিয়ে গেল সবার।
সেখানে লাল কালিতে মার্কিং করে লেখা হাসপাতালে কয়েকজন ডাক্তার ছিলো যারা জীবিত মানুষকে অজ্ঞান না করেই অপারেশন করতো এবং বুক ফেড়ে কলিজা বের করে কাচা চিবিয়ে খেত। এটা প্রমান হওয়ার পর কতিপয় রোগীর আত্মীয়রা তাদের অপারেশন টেবিলেই পিটিয়ে মেরে ফেলে।এত কিছু দলিল দেখার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিলেন হাসপাতালটি আজীবনের জন্য বন্ধ করতে।অবশেষে সরকার এটি নতুন করে সিলগালা করে বন্ধ করা হয়েছে।

এই হাসপাতালের ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা ভৌতিক মুভি Return to House on Haunted Hill

Popular Posts

ব্ল্যাক ম্যাজিক/কালা যাদু থেকে বাঁচার উপায়

রাইটার -  মি. জোকার আমার  প্রথম ৩টি পোষ্টের মাধ্যমে আমি কালা যাদু, জ্বিন, কুফুরি/তাবিজ/বান নিয়ে বলেছি । অনেকে হয়ত এই বেপারে অনেক অবগত হয়েছেন । আর অনেকে বেপারগুলা জানেন কিন্তু এ থেকে বাঁচার উপায় জানেন না । আমি  কালা যাদুর থেকে নিজেকে বাচানোর কিছু প্রথমিক বিষয় আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে আর উপকারেও আসবে । তবে  আমি ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে আগে কিছু বলতে চাই । এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের অনেক গুলা শ্রেণী বিভাগ রয়েছে । এর মধ্যে কুফরি, ডাকিনি বিদ্যা, ট্যারোট কার্ড অন্যতম । এরা সবাই শ য়তানের পূজা করে । তবে সব কুফরিকারী, ডাকিনিবিদ্যাকারী, ট্যারোট কার্ড রিডার কালা যাদুকর হলেও অনেক কালা যাদুকর এগুলা করে না । আবার সব শয়তানের পূজারি আবার কালা যাদু কর না। যেমন লাভেয়ান সাটানিজম এই জনগোষ্ঠীর কথা আলাদা (এরা শয়তানের পূজা করলেই এদের সব আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে ) তাহলে  শুরু করা যাক , প্রথমেই বলে নেই সব ধর্মে বলা আছে যে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, আর সৃষ্টিকর্তার উপরে আর কেউ নেই । তাই সকল পরিবেশে তার উপরে ভরসা রাখুন । আমরা  ইসলাম ধর্মের যারা আছি তারা...

অতৃপ্ত আইডি

রাত তখন প্রায় ২ টা। ফেসবুকিং করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো। গিয়ে দেখলাম একটা মেয়ের আইডি, আইডির নাম, 'তামান্না আফরিন'।  আমি প্রোফাইল চেক না করেই রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ফেললাম।  রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর আমি মেয়েটির প্রোফাইলে ঢুকলাম, এবং তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম।  মাশাআল্লাহ! এতো সুন্দর মেয়েটা! বলার বাহিরে! তার আইডিতে তার সাথে অনেকেরই ছবি আছে। এরা হয়তো তার ফ্রেন্ডস আর ফেমিলি মেম্বার। এসব দেখে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে এটা ফেইক আইডি না।  আমি তার ছবিগুলো দেখতে লাগলাম। . মিনিট খানিক পর একটা মেসেজ আসলো। ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম এই মেয়েটারই মেসেজ। মেয়েটি "হাই" দিলো। আমিও রিপ্লাই দিলাম "হেলো"। মেয়েটি বললো, ~ কেমন আছেন? . -- জি ভালো। আপনি? . ~ হ্যা ভালো। . -- জি, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়ার কোনো কারণ? . ~ নাহ, এমনিই দিলাম। . -- ওহ আচ্ছা। . ~ আপনাকে ভালো লেগেছে। . তার এ কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। আবার একটু ভালোও লাগলো। কারন ওর ছবিগুলো দেখে ও কে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি জবাব দিলাম, -- ইয়ে..মানে, বুঝতে পারলাম না . ~ বললাম, আপনাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। . -- ও...

হরর মুভি রিভিউ - “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ”

চলে এলাম আজকের মুভি সিনোপসিস নিয়ে।। আজকে আমি যে মুভিটা নিয়ে লিখবো, সেটা হরর মুভি এর জগতে একটি বিশেষ অবস্থান করে রেখেছে। কারণ, মুভিটির মূল চরিত্রের অস্তিত্ব বাস্তব জীবনেও ছিল এবং এটি প্যারানরমাল বিষয়ের হিস্ট্রিতে একটি বহুল আলোচিত ঘটনার উপর চিত্রিত। মুভিটির নাম হলোঃ- “দ্য এক্সরসিসম অফ এমিলি রোজ” ( The Exorcism Of Emily Rose ) The Exorcism Of Emily Rose আমার মনে হয় মুভির সামারি না দিয়ে আপনাদের সত্য ঘটনাটা বললেই আপনারা বেশি উপকৃত হবেন। কারন, মুভি তো আপনারা ডাউনলোড করেই দেখতে পারবেন। কিন্তু মূল ঘটনা ইন্টারনেটেও কোথাও গুছিয়ে লেখা নাই। তাই আজ আমি প্রথমে ঘটনাটা দিয়েই শুরু করি। “এমিলি রোজ” একটি ফিকশনাল নাম। যার ঘটনা নিয়ে এই মুভিটা হয়েছে তার আসল নাম হলো, “ আনেলিসা মিশেল ” । সে ১৯৫২ সালের ২১শে সেপ্টেম্বার, জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করে। বাভেরিয়া শহরের খুবই সাধারণ এবং সুন্দর একটি মেয়ে ছিল সে। সহজ-সরল এবং ধার্মিক স্বভাবের ছিল। ১৬ বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে হঠাৎ একদিন সে দেখল সে তার নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সাহায্যের জন্য সে তার পিতা-মাতা আর তিন বোনকে ডেকেছিল ঠিকই কিন্তু তা...